বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঊনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার।
জন্ম ও বংশ পরিচয়
1820 খ্রিস্টাব্দে 26 সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বীর সিংহ গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মাতা ভগবতী দেবী।
শিক্ষাজীবন
চার বছর নয় মাস বয়সে ঠাকুরদাস বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের সনাতন বিশ্বাসের পাঠশালায় ভর্তি করে দিয়েছিলেন।
১৮২৮ সালের নভেম্বর মাসে পাঠশালার শিক্ষা সমাপ্ত করে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য পিতার সঙ্গে কলকাতায় আসেন।
কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলের বিখ্যাত সিংহ পরিবারে তারা আশ্রয় নেন।
১৮২৯ সালের ১ জুন সোমবার কলকাতা গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে ব্যাকরণের তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি।
১৮৩৯ সালের ২২ এপ্রিল হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষা দেন ঈশ্বরচন্দ্র। এই পরীক্ষাতেও যথারীতি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ১৬ মে ল কমিটির কাছ থেকে যে প্রশংসাপত্রটি পান, তাতেই প্রথম তার নামের সঙ্গে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিটি ব্যবহৃত হয়।
কর্ম ও সাহিত্য জীবন
১৮৪১ সালে সংস্কৃত কলেজে শিক্ষা সমাপ্ত হবার পর সেই বছরই ২৯ ডিসেম্বর মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে আবৃত হন বিদ্যাসাগর মহাশয়।
১৮৪৭ এর এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয় হিন্দি বেতাল পচ্চিসী অবলম্বনে রচিত তার প্রথম গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি।
এরপর একে একে বাংলা গদ্য সাহিত্যে অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। উপহার দিয়েছেন অনেক অনুবাদ মূলক রচনা এবং মৌলিক রচনার।
ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ
বাঙ্গালার ইতিহাস-১৮৪৮
জীবন চরিত - ১৮৪৯
বোধদয় - ১৮৫১
নীতিবোধ - ১৮৫১
বর্ণপরিচয় - ১৮৫৫
কথামালা - ১৮৫৬
ভ্রান্তিবিলাস - ১৮৫৯
সংস্কৃত থেকে বাংলা অনুবাদ
বাসুদেব চরিত- ১৮৪৭
বেতাল পঞ্চবিংশতি-১৮৪৭
শকুন্তলা- ১৮৫৪
সীতার বনবাস-১৮৬০
মহাভারতের উপক্রমণিকা-১৮৬০
সমাজ সংস্কার মূলক রচনা
১. বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা
এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব - ১৮৫৫{দুটি খন্ডে
(জানুয়ারি ও অক্টোবর) তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায়}
২. বহুবিবাহ রোহিত হওয়া উচিত কিনা
এতদ্বিষয়ক বিচার- (১৮৭১-প্রথম খন্ড)
(১৮৭৩-দ্বিতীয় খন্ড)
বিতর্কমূলক মৌলিক রচনা
অতি অল্প হইল – ১৮৭৩
আবার অতি অল্প হইল - ১৮৭৩
ব্রজ বিলাস - ১৮৮৪
রত্ন পরীক্ষা - ১৮৮৬
প্রথম তিনটি কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য ছদ্মনামে
এবং
রত্ন পরীক্ষা - কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহচরস্য ছদ্মনামে লেখেন
সাহিত্য সংস্কৃতি মূলক মৌলিক রচনা
সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব-১৮৫৩
বিদ্যাসাগর চরিত-১৮৯১
প্রভাবতী সম্ভাষণ-১৮৯১ (মৃত্যুর পর প্রকাশিত সর্বশেষ রচনা)
বিদ্যাসাগরের গুরুত্ব
১৮৮০ সালের ১ জানুয়ারি বিদ্যাসাগর ভারত সরকারের কাছে সি আই ই উপাধি পান।
১৮৮৩ সালে বিদ্যাসাগর মহাশয় পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন।
১৮৯০ সালের ১৪ এপ্রিল বীরসিংহ গ্রামে মায়ের নামে স্থাপন করেন ভগবতী বিদ্যালয়।
মৃত্যুবরণ
বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রয়াত হন ১৮৯১ সালের
২৯ জুলাই, বাংলা ১২৯৮ সনের ১৩ শ্রাবণ, তার
কলকাতার বাদুড়বাগানস্থ বাসভবনে। মৃত্যুকালে
তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর
********************************************
প্রশ্ন-উত্তর পর্ব
১. বিদ্যাসাগর কবে, কোথায় জন্মগ্রহণ করেন ?
👉 ১৮২০ সালে, মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে
২. বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যে যথার্থ শিল্পী কে বলেছেন?
👉 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
৩. বিদ্যাসাগর চরিত রচনাটি কে সমাপ্ত করে প্রকাশ করেন?
👉 পুত্র নারায়ণ চন্দ্র বিদ্যারত্ন
৪.বিদ্যাসাগরের প্রথম শোকগাথা কোনটি?
👉 প্রভাবতী সম্ভাষণ
৫.বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
👉 বিদ্যাসাগর চরিত
৬.বিদ্যাসাগরের দুজন জীবনীকারেরনাম
লেখ?
👉 বিহারীলাল সরকার,চণ্ডীচরণ
বন্দ্যোপাধ্যায়
৭.বিদ্যাসাগর কোন পত্রিকার সম্পাদক
ছিলেন?
👉 'তত্ত্ববোধিনী
৮.বিদ্যাসাগরসিনেমাটির পরিচালক
কে?
👉 কালীপ্রসাদ ঘোষ
৯.বিদ্যাসাগরস্মৃতি-কার লেখা
👉 কামিনীরায়
১০. বিদ্যাসাগর উপাধি কে দিয়েছিল ?
👉 হিন্দু ল কমিটি
১১. C.I.E উপাধি কে দিয়েছিলেন ?
👉 ভারত সরকার (১৮৮০)
১২. ঈশপের গল্প অনুসারে বিদ্যাসাগর কোন রচনাটি লেখেন?
👉 কথামালা
১৩. বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কি?
👉 বেতাল পঞ্চবিংশতি
১৪. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কি নামে স্বাক্ষর করতেন?
👉 ঈশ্বর চন্দ্র শর্মা
১৫. বিদ্যাসাগর রচিত জনপ্রিয় শিশু পাঠ্যের নাম কি ?
👉 বর্ণপরিচয়
আরো বিস্তারিত প্রশ্ন উত্তরের জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওটি ফলো করুন ....

0 Comments