Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ধর্মমঙ্গলকাব্য ও ঘনরাম চক্রবর্তী



ধর্মমঙ্গলকাব্য ও ঘনরাম চক্রবর্তী 


 মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার তিনটি প্রধান শাখার অন্যতম ধর্মমঙ্গল কাব্য । 


❤️এই কাব্যের কয়েকটি বিশেষত্ব হলো:

১) সপ্তদশ শতাব্দীতে রচিত ধর্মমঙ্গল কাব্য একান্তভাবে আঞ্চলিক কাব্য।

২) সমগ্র বাংলা নয় , বাংলার দক্ষিণ ও পশ্চিম অংশের লৌকিক অনার্য দেবতা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য প্রচার এই কাব্যের মূল বিষয় ।

৩) ধর্মমঙ্গল কাব্য প্রধানত বীররসাত্মক কাব্য এবং কাব্যের কাহিনীর পটভূমিতে প্রাচীন গৌর দেশের (রাঢ বঙ্গের) ঐতিহাসিক ঘটনা প্রচ্ছন্নভাবে বর্তমান।

৪) ধর্ম দেবতার পূজা অনুষ্ঠানে বৈদিক, অনার্য , বৌদ্ধ ভাবনা , এমনকি ইসলামী ভাবধারা সম্মিলিতভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

৫) ধর্ম পূজায় ডোম, জেলে ,নাপিত, যুগী , বাগদি ইত্যাদি ব্রাহ্মণেতর সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার স্থান পেয়েছে।


❤️ ধর্মমঙ্গল_কাব্যের_কবিগণ 

বাংলা সাহিত্যের গবেষক গণ প্রায় কুড়িজন ধর্মমঙ্গল কাব্য রচিয়তার নাম উল্লেখ করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন উল্লেখযোগ্য কবি হলেন- ময়ূর ভট্ট ,রূপ রাম চক্রবর্তী , ঘনরাম চক্রবর্তী,  রামদাস আদক, সিতারাম দাস , যদুনাথ রায় প্রমূখ।

তবে ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি রূপে সকলেই ময়ূর ভট্টের নাম স্বীকার করেছেন যদিও তার প্রামাণ্য পুঁথি আজও আবিষ্কৃত হয়নি।

ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবিরূপের সম্মানিত ময়ূর ভট্টের কাব্য "হাকন্দপুরাণ"  বসন্তকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে "শ্রীধর্মপুরাণ" -  নামে প্রকাশিত হয়েছে।


তবে যাই হোক আজকে আমাদের পাঠ্য এই ধর্মমঙ্গল কাব্যের একজন জনপ্রিয় কবি ঘনরাম চক্রবর্তী সম্পর্কে।


❤️ ঘনরাম_চক্রবর্তী

সপ্তদশ - অষ্টাদশ শতকের ধর্মমঙ্গল কাব্যের শিক্ষিত,  দক্ষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী ১৬০১ শকাব্দ বা ১৬৭৯ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমান জেলার কুকুরা-কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

পিতার নাম ছিল গৌরীকান্ত এবং মাতা সীতা দেবী।পিতামহ ধনঞ্জয় চক্রবর্তী এবং প্রপিতামহ পরমানন্দ চক্রবর্তী । নিজে রাম ভক্ত ছিলেন বলে চার পুত্রের নাম রেখেছিলেন - রাম রাম , রাম গোপাল, রাম গোবিন্দ, রামকৃষ্ণ ।


ঘররাম চক্রবর্তীর রচিত কাব্যটির নাম - " অনাদিমঙ্গল" , তবে কাব্যটি অনেক জায়গায় - "শ্রীধর্মসংগীত " এবং "মধুভারতী" নামেও জনপ্রিয় ।

কাব্যটির রচনা কাল জ্ঞাপক শ্লোকটি হল-


"শক লিখে রাম গুণ রসসুধাকর "


এই শ্লোক অনুযায়ী 'অঙ্কস্য বামাগতি' সূত্রে রচনা কাল ১৬৩৩ শকাব্দ কিংবা (১৬৩৩+৭৮) ১৭১১ খ্রিস্টাব্দ । 


ঘররাম চক্রবর্তীর অনাদিমঙ্গল কাব্যে ২৪ টি সর্গ বা পালা , এবং ৯১৪৭ টি শ্লোক রয়েছে । কাব্যটির কাহিনি দুটি অংশে বিভক্ত : প্রথমটি পৌরাণিক রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি, এবং দ্বিতীয়টি লাউসেনের উপাখ্যান । 

কাব্যটি রচনার কারণ হিসেবে কবি রাজা কীর্তিচন্দ্রের আদেশের কথা জানিয়েছেন -- 

"অখিলে বিখ্যাত কীর্তি     মহারাজ চক্রবর্তী
                 কীর্তিচন্দ্র নরেন্দ্র প্রধান |
চিন্তি তাঁর রাজোন্নতি ,          কৃষ্ণপুর নিবসতি,
                    দ্বিজ ঘনরাম রস গান || "

কিন্তু ঘনরামের কাব্য রচনা সম্পর্কে ডক্টর সুকুমার সেন এক অপূর্ব তথ্য দিয়েছেন-

 " কৃষ্ণপুর গ্রামের কাছে রামবাটি টোলের ভট্টাচার্যের ছাত্র ছিলেন ঘনরাম ।  ভট্টাচার্য মহাশযয়ের নির্দেশে  রামভক্ত কবি ঘনরাম ' রাম বন্দনা ' লিখে ঘুমোতে গেলে পরদিন সকালে দেখেন - তা ধর্ম ঠাকুরের বন্দনা হয়ে গেছে । পরদিন তা দেখে সে পাতা ছিঁড়ে দিয়ে নতুন করে লেখেন রাম বন্দনা  কিন্তু রাত্রে রামচন্দ্র তাকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেন ইতিপূর্বে  রামপাঁচালী  অনেকেই লিখেছে তাই তার লিখে আর কাজ নেই , তিনি বরং ধর্মমঙ্গল লিখুন । " তারপরেই তিনি এই ধর্মমঙ্গল কাব্য রচনা করেন।

সুতরাং কাব্য রচনা কারণ রূপে একই সঙ্গে বাস্তব ও স্বপ্নাদেশ উভয় তথ্যই দিয়েছেন কবি।


⏭️ বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওটি অবশ্যই দেখবেন⏮️


++++++++++++++++++++++++++++++

১. তথ্যসূত্র- বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত (ড:অসিত কুমার বন্দোপাধ্যায়)

২. বাংলা সাহিত্য পরিচয় (ড: পার্থ চট্টোপাধ্যায়)

৩. বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিহাস (ড: অশোক কুমার মিশ্র)

৪. গুগল উইকিপিডিয়া


ধন্যবাদ  ☺️

Sscbangla123

Post a Comment

0 Comments