Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কৃত্তিবাসওঝা ও শ্রীরামপাঁচালী

 ❤️ কৃত্তিবাসওঝা ও শ্রীরামপাঁচালী ❤️ 


 বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের সমস্ত গ্রন্থ রচিত হয়েছে তার মধ্যে অনুবাদ সাহিত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় । বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের সূচনা আদি মধ্যযুগ  


অনুবাদ সাহিত্য আবির্ভাবের কারণ 

এই অনুবাদ সাহিত্যের আবির্ভাব ঘটার কারণ গুলি হল-   ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশে যে তুর্কি আক্রমণ ঘটে এর ফলে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে , তারা হিন্দু ধর্ম ছেড়ে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে । কারণ এসময় একদিকে হিন্দু শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটে ও ইসলামী শাসনতন্ত্রের শুরু হয় এবং অন্যদিকে উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের নিরন্তর অবহেলা নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মনে এক বিশৃঙ্খলা অবস্থার সৃষ্টি করে।  এই পরিস্থিতিতে পৌরাণিক হিন্দু ধর্মের আদর্শকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন কবিরা প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গুলি সংস্কৃত ভাষা ভাষা থেকে বাংলায় সহজ সরল ভাবে অনুবাদ করে নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে থাকেন- যাতে করে তারা নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পারে - 

" লোকখ বুঝাইতে কইলা কৃত্তিবাস পন্ডিত "

 মালাধর বসু ও একই কারণে ভাগবতের অনুবাদ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন -

  " লোক নিস্তারিতে গাই পাঁচালী রচিয়া " 

 আবার অনেকে মনে করেন - ইসলামী শাসন শুরু হলেও  ই


সলামী রাজারা ছিলেন হিন্দু প্রজা মণ্ডলী দ্বারা পরিবৃত । তাই তারা ইচ্ছা এবং অনিচ্ছায় হিন্দু সংস্কৃতির সাথে ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন। দীনেশ চন্দ্র সেন এর মতে- মুসলমান শাসকরা হিন্দুধর্মের প্রাচীন আচার ব্যবহার সম্পর্কে কৌতুহলী হয়ে পড়েন, ফলে তারা সেসব জানার জন্য তাদের সভা কবিদের দ্বারা প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রের অনুবাদ করাতেন ।  ইলিয়াস শাহী বংশের ভূমিকা এ ব্যাপারে বিশেষ উল্লেখযোগ্য । প্রধানত এইসব কারণেই  প্রাচীন অনুবাদ সাহিত্যের সৃষ্টি  


  অনুবাদ সাহিত্যের শ্রেণীবিভাগ 

সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয় -

 ১) রামায়ণ 👇 

(কৃত্তিবাস ওঝা , অদ্ভুত আচার্য , চন্দ্রাবতী, ভবানী দাস, ঘনশ্যাম দাস,  শংকর কবিচন্দ্র , ) 

২) ভাগবত 👇 

(মালাধর বসু ,  যশোরাজ খান , রঘুনাথ পন্ডিত , কবিশেখর রায়, পরশুরাম চক্রবর্তী , শংকর চক্রবর্তী কৃষ্ণ দাস  )

 ৩) মহাভারত 👇

 (কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী , কাশীরাম দাস , নিত্যানন্দ ঘোষ , দ্বিজ অভিরাম , দ্বৈপায়ন দাস  )  


কৃত্তিবাস ওঝা ও শ্রীরাম পাঁচালী

 যাইহোক আজকে আমাদের পাঠ্য অনুবাদ সাহিত্যের কৃত্তিবাস ওঝা ও তাঁর কাব্য "শ্রীরামপাঁচালী" । তাঁর আত্মবিবরণী থেকে জানা যায় - কৃত্তিবাস ওঝার প্রপিতামহ নরসিংহ ওঝা পূর্ববঙ্গে বেদানুজ নামে এক রাজার সভায় পাত্র বা সভাসদ হিসাবে কাজ করতেন। কিন্তু রাষ্ট্রবিপ্লবের ফলে নরসিংহ ওঝা সপরিবারে কর্মস্থল বঙ্গদেশ ত্যাগ করে গঙ্গার তীরে ফুলিয়া গ্রামে বসতি করেন।   নরসিংহের পৌত্র মুরারি ওঝা , যার পুত্র বনমালী ওঝা অর্থাৎ নরসিংহ ওঝার প্রপৌত্র বনমালী ওঝা  ছিলেন কৃত্তিবাসের পিতা। এইভাবে বংশপরিচয় দিয়ে কৃত্তিবাস নিজের জন্ম সম্পর্কে লিখেছেন - 

"আদিত্যবার শ্রীপঞ্চমী পূর্ণ মাঘমাস
 তথিমধ্যে জন্ম লইলাম কৃত্তিবাস॥" 

 তবে তার জন্ম সাল নিয়ে নানান বিতর্কের ফলে অবশেষে প্রামাণ্য বলে স্বীকৃতি হয়েছে গবেষক সুখময় মুখোপাধ্যায়ের মতামত । তার মত অনুযায়ী কৃত্তিবাসের জন্মকাল ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ রা জানুয়ারি , (মাঘ মাসের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে রবিবারে ) তবে নানারুপ জ্যোতিষ গবেষণার মাধ্যমে যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি মনে করেন ১৩৮৬ - ৯৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কৃত্তিবাসের জন্ম হয়।  

কৃত্তিবাসের মাতার নাম ছিল মালিনী দেবী। এ সম্পর্কে তিনি লিখেছেন-  

" মালিনী নামেতে মাতা  বাবা বনমালী
ছয় ভাই উপজিল সংসারে গুণশালী " 

অর্থাৎ মালিনী দেবীর ছয় পুত্রের মধ্যে একজন কৃত্তিবাস ওঝা।  ১২ বছর বয়সে পদ্মা নদী অতিক্রম করে কবি চতুষ্পাটিতে উপনীত হন । রাজ পন্ডিত হবার আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে পরিণত করার জন্য যৌবনে তিনি গৌড়েশ্বরের সভায় উপস্থিত হন :  

" রাজ পন্ডিত হবো মনে আশা করে 
পঞ্চশ্লোক ভেটিলাম রাজা গৌড়েশ্বরে " 

 নিজের পাণ্ডিত্য ও কবিত্ব শক্তিতে রাজাকে মুগ্ধ করে তিনি রাজ অনুগ্রহ ও পুরস্কার লাভে সক্ষম হন । এইভাবে রাজ কবির আসন অলংকৃত করে তিনি শ্রীরাম পাঁচালী কাব্যটি শেষ করেন।

  কৃত্তিবাসের রচিত " শ্রীরাম পাঁচালী " কাব্যটি  কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে অধিক পরিচিতি লাভ করেছে । কাব্যটির  রচনাকাল সঠিকভাবে বলা না গেলেও জানা যায় গৌড় রাজের আদেশে  ১৪৬০ শতকে তিনি তার রামায়ণ রচনা আরম্ভ করেছিলেন । 

  কাব্যটি সরল বাংলায় পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত। বাল্মিকী রামায়ণের মূল কাহিনী কে সংক্ষেপে ভাবানুবাদ করেছেন কৃত্তিবাস । 

কাব্যটি ১৮০২-০৩ সালে সর্বপ্রথম শ্রীরামপুর মিশন থেকে উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে মুদ্রিত হয় ।  


 🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑  


🌼বিনা অনুমতিতে কপি পেস্ট নিষিদ্ধ...  

🌼 অনিচ্ছাকৃত  ত্রুটি মার্জনীয়

🌼প্রশ্ন উত্তর পর্বের জন্য অবশ্যই আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওটি দেখুন ।  


#তথ্যসূত্র 

❤️ বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত - ডক্টর অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় 

❤️ বাংলা সাহিত্য পরিচয় - ডক্টর পার্থ চট্টোপাধ্যায় ❤️ বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিহাস - ডক্টর অশোক কুমার মিশ্র 

❤️ গুগল উইকিপিডিয়া


  ধন্যবাদান্তে

 Sscbangla123

Post a Comment

0 Comments