Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বৃন্দাবন দাস


বৃন্দাবন দাস

জীবনী সাহিত্য / চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আবির্ভাব এর কারন

যেসব বিখ্যাত মানুষের কথা অন্যের কাছে গ্রহণীয় এবং আদরনীয় হয়ে ওঠে যাদের আচরণ অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে পারে , তাদের জীবন কথা অবলম্বনে যে সাহিত্য গড়ে ওঠে তাকে জীবনী সাহিত্য বলে ।
ষোড়শ শতকের পূর্বে বাংলা ভাষায় জীবনী ধর্মী রচনার সামান্য নিদর্শন মেলে , যেমন সন্ধ্যাকর নন্দী, রামপাল বিগ্রহ পালের জীবন কথাকে অবলম্বন করে রচনা করেছিলেন "রামচরিত "

কিন্তু ষোড়শ শতাব্দী থেকে বাংলা সাহিত্যে এমন একজনের জীবন কথা অবলম্বনে জীবনী কাব্য রচিত হতে শুরু করল যিনি কোন বস্তুগত সিংহাসনে আরোহন না করলেও সাধারণ মানুষের হৃদয় সিংহাসনে আরোহন করেছেন - তিনি হলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ।
চৈতন্যের জীবনী অবলম্বনে যে সমস্ত গ্রন্থ রচিত হলো সেগুলি চৈতন্য জীবনী কাব্য নামে পরিচিত

প্রথমে চৈতন্য জীবনী অবলম্বনে সংস্কৃত ভাষায় জীবনী কাব্য  ও নাটক রচনা শুরু হয় । এই প্রয়াস প্রথম দেখা যায় মুরারি গুপ্ত ও স্বরূপ দামোদরের মধ্যে । মুরারি গুপ্তের গ্রন্থটি -  " শ্রীশ্রীকৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত "  যেটি মুরারি কড়চা নামে পরিচিত ( ৭৮ টি স্বর্গ ) । এই গ্রন্থটি চৈতন্য জীবনী কাব্যের আদি গ্রন্থ নামে পরিচিত ।
এছাড়াও রয়েছেন কবি কর্ণপুর (আসল নাম পরমানন্দ সেন) , যার কাব্য হল - " চৈতন্যচরিতামৃত " , নাটক -  " চৈতন্য চন্দ্রোদয় "

পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে এই সংস্কৃত কাব্যগুলোকে অনুসরণ করে যেসব চৈতন্য জীবনী সাহিত্যের আবির্ভাব ঘটে , সেগুলির মধ্যে -
১) বৃন্দাবন দাসের - "চৈতন্য ভাগবত"
২) লোচন দাসের-  "চৈতন্য মঙ্গল"
৩) জয়ানন্দের - "চৈতন্য মঙ্গল"
৪) কৃষ্ণদাস কবিরাজের -  "শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত"

ইত্যাদি গ্রন্থ গুলি উল্লেখযোগ্য ।

যাইহোক আজ আমাদের পাঠ্য বাংলাসাহিত্যে চৈতন্য জীবনীকার বৃন্দাবন দাস ও তার কাব্য  " চৈতন্যভাগবত"  সম্পর্কে



বৃন্দাবন দাস 

বৃন্দাবন দাস তার রচিত চৈতন্য জীবনীতে নিজের সম্বন্ধে বিশেষ কিছু বলেননি , যতদূর জানা যায় তিনি নবদ্বীপের চৈতন্য ভক্ত শ্রীবাসের ভ্রাতুষ্কন্যা নারায়নী দেবীর পুত্র ছিলেন । শ্রীচৈতন্যের আশীর্বাদে তার জন্ম হয়েছিল এই ধরনের কাহিনী প্রচলিত আছে ।
তিনি আনুমানিক ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন ।

কবি খুবই অল্প বয়সে নিত্যানন্দের সান্নিধ্য লাভ করে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন । 

তিনি শেষ জীবন অতিবাহিত করেন বর্ধমান জেলার দেনুর গ্রামে ।



বৃন্দাবন দাসের কাব্য

বৃন্দাবন দাসের রচিত - "চৈতন্য ভাগবত"  বাংলা ভাষার প্রথম চৈতন্য জীবনী মূলক গ্রন্থ । গ্রন্থটিতে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন কাহিনী পাওয়া যায় । এই গ্রন্থটি রচনার জন্য তিনি বৈষ্ণব সমাজে- " চৈতন্য লীলার ব্যাস " বলে সম্মানিত হয়েছেন ।

কবি কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাই লিখেছেন-

" কৃষ্ণ লীলা ভাগবতে কহে বেদব্যাস
চৈতন্য লীলার ব্যাস -  বৃন্দাবন দাস "

কাব্যটি তিনটি খন্ডে, মোট ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত -


➡️ ১) আদি খন্ড - ১৫  টি অধ্যায়
বিষয় : চৈতন্যদেবের জন্ম , বাল্যলীলা , বিদ্যা শিক্ষা, বিবাহ , পিতৃপিণ্ড দানের জন্য গয়া গমন , ঈশ্বরী পুড়ির নিকট দীক্ষা লাভ ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ।


➡️ ২) মধ্য খন্ড - ২৬ টি অধ্যায়
বিষয় : নবদ্বীপে গৌরাঙ্গের লীলা , কাজীর বিরোধিতা , কাজীর দলন ও উদ্ধার , সন্ন্যাস গ্রহণ


➡️ ৩) অন্ত্য খন্ড - ১০ টি অধ্যায়
বিষয়: মহাপ্রভুর নীলাচলে বাসের কাহিনী



গ্রন্থের নামকরণ

চৈতন্যভাগবত গ্রন্থের আদি নাম ছিল চৈতন্যমঙ্গল  । কিন্তু পরে জানা যায় যে কবি লোচন দাসও এই নামের একটি চৈতন্যজীবনী রচনা করেছেন। তখন বৈষ্ণব সমাজের গণ্যমান্য পণ্ডিতগণ বৃন্দাবনে একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে বৃন্দাবন দাস ঠাকুরের গ্রন্থটির নাম হবে "চৈতন্যভাগবত"  এবং লোচন দাসের গ্রন্থটি "চৈতন্যমঙ্গল" নামে পরিচিত হবে



গ্রন্থের উৎস

গ্রন্থটি রচনায় খুবই বৃন্দাবন দাস গুরু নিত্যানন্দের কাছে চৈতন্য জীবনীর অধিকাংশ উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন ।  তবে কাব্য পরিকল্পনায় তিনি মুরারি গুপ্তের সংস্কৃত কাব্য - " শ্রী শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃত "
গ্রন্থের দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন ।


বৃন্দাবন দাসের কাব্য প্রতিভা

কাব্যটিতে বৃন্দাবন দাস অসাধারণ কবিত্ব শক্তির পরিচয় দিয়েছেন। বর্ণনার পরিচ্ছন্নতা , করুন বেদনাময় আবেগ ব্যাকুলতা , ইত্যাদি প্রকাশে তিনি প্রথম শ্রেণীর কবি প্রতিবার পরিচয় দিয়েছেন।


Post a Comment

0 Comments