Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভারতচন্দ্র ও অন্নদা মঙ্গলকাব্য


 

অন্নদামঙ্গল ও ভারতচন্দ্র

অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের মতো অন্নদামঙ্গল খণ্ডে দেবী অন্নদার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। সতীর দেহত্যাগ, শিব-পার্বতীর বিবাহ ও তাদের দাম্পত্য জীবন সহ একাধিক পৌরাণিক কাহিনী এই কাব্যে বর্ণিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তব পরিবেশের চিত্রগুলি এই কাব্যের বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে।

কবিকঙ্কন মুকুন্দরামকে বাদ দিলে রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের সমকক্ষ আর কোন কবি মধ্য যুগে আবির্ভূত হননি। অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কবি রায় গুণাকার ভারতচন্দ্র , সমগ্র বাংলা সাহিত্যেরই একজন প্রথম শ্রেণীর মার্জিত রুচি সম্পূর্ণ উজ্জ্বল ও বৃহৎ নক্ষত্র। তিনি ঘরের কবি নন রাজসভার কবি ছিলেন।


জন্ম ও বংশ পরিচয়

তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৭১০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে হাওড়া জেলার ভুরশুট পরগনার অন্তর্ভুক্ত পেঁড়ো গ্রামে ভরদ্বাজ গোত্রে - জমিদার বংশে।
"ভরদ্বাজ অবংশত ,  ভূপতি রায়ের বংশ
সদা ভাবে হত কংস , ভুরসুটে বসতি "
নরেন্দ্র রায়ের সুত..."
তার পিতা ছিলেন বিখ্যাত জমিদার নরেন্দ্রনারায়ণ রায়  (প্রকৃত উপাধি ছিল মুখোপাধ্যায়) , এবং মাতা ছিলেন ভবানী দেবী


বাল্যশিক্ষা ও কর্মজীবন

জমিদার নরেন্দ্র নারায়ন বর্ধমানের মহারানীকে দুর্ভাগ্য বলায় তাঁর কোপে পড়ে জমিদারি হারান , বাধ্য হয়ে বালক কবি ভারতচন্দ্র মাতুলালায় লালিত পালিত হতে থাকেন । ১৪-১৫ বছর বয়সে সংস্কৃতে দক্ষ হয়ে ওঠেন পরবর্তীতে ফরাসি ভাষাতেও বিশেষ অধিকার স্থাপন করেছিলেন। এ সময় কেশর কুণী বংশের কন্যাকে স্বেচ্ছায় বিবাহ করার জন্য ত্যাজ্যপুত্র হন কবি।

এ সময়  (আনু: ১৭৩৭- ৩৮ সাল) রামচন্দ্র মুন্সির অনুপ্রেরণায় রচিত গ্রন্থটি হল - " সত্যপীরের পাঁচালী"

কয়েক বছর পরে পিতার হয়ে তিনি বর্ধমান মহারাজের কাছে যান তার জমিদারি ফিরিয়ে আনার জন্য , কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি কারাগারে বন্দি হন । এরপর কারারক্ষীদের কৃপায় মুক্তি পেয়ে চলে যান পুরীধামে । সেখানে বৈষ্ণবদের মাঝে কিছুদিন থাকার পর বৃন্দাবন যাবার পথে শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়রা  তাকে চিনতে পেরে
ফিরিয়ে এনে গৃহবাসী করেন।
পরে নানা ভাগ্য বিপর্যয়ের মাধ্যমে ইন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর চেষ্টায় তিনি নবদ্বীপের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কৃপা লাভ করেন।  মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি নিযুক্ত হন।


কাব্য পরিচয়

এ সময় ভারতচন্দ্র মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অনুরোধে রচনা করেন তাঁর সর্বাধিক জনপ্রিয় কাব্য "অন্নদামঙ্গল" , যাকে তিনি "নূতন মঙ্গল" বলে আখ্যায়িত করেছেন-

" নূতন মঙ্গল আসে           ভারত সরস ভাসে
                 রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আজ্ঞায় "

কাব্যটি তিনটি খন্ডে বিভক্ত-
১) অন্নদা মঙ্গল বা অন্নদা মাহাত্ম্য
২) কালিকামঙ্গল বা বিদ্যা সুন্দর
৩) অন্নপূর্ণা মঙ্গল বা মানসিংহ


কাব্যটির রচনাকাল জ্ঞাপক শ্লোকটি হল-

"বেদলয়ে ঋষি রসে ব্রাহ্ম নিরুপিলা
সেই শকে এই গীত ভারত রচিলা "

বেদ= ৪ / ঋষি= ৭ / রস = ৬ / ব্রহ্ম = ১
অর্থাৎ অঙ্কস্য বামাগতি সূত্রে কাব্যটির রচনাকাল- ১৬৭৪ শকাব্দ বা (১৬৭৪+৭৮)= ১৭৫২ খ্রিষ্টাব্দ।


উপাধি লাভ ও অন্যান্য রচনাবলী

ভারতচন্দ্রের কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাকে " রায়গুণাকর"  উপাধি এবং মূলাজোড়
গ্রাম দান করেন।
কিন্তু বর্ধমানের মহারানী , কৃষ্ণচন্দ্রের কাছ থেকে রামদেব নাগের নামে মূলাজোড় গ্রাম ইজারা নিলে  মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র পরবর্তীতে ভারতচন্দ্রকে গুপ্তে গ্রামে ১০৫ বিঘা ও মূলাজোড়ে ১৩ বিঘা জমি দান করেন ।
এ সময় রামদেব নাগের রাজস্ব আদাই বিষয় অত্যাচার চরণে ওঠে ,ফলে কবি রচনা করেন - " নাগাষ্টক"  (১৭৪৫-৫০)
পরবর্তীতে ভারতচন্দ্র -  "চন্ডী নাটক" নামেও একটি নাটকের কিয়দংশ রচনা করেছিলেন । তবে যাই হোক ভারতচন্দ্রের প্রকৃত খ্যাতি তার অন্নদামঙ্গল কাব্যের জন্য


🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑🛑


(অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি মার্জনা করবেন)

🛑 বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর পর্বের জন্য অবশ্যই আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওটি দেখুন 🛑

#তথ্যসূত্র
❤️ বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত - ডক্টর অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
❤️ বাংলা সাহিত্য পরিচয় - ডক্টর পার্থ চট্টোপাধ্যায়
❤️ বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিহাস - ডক্টর অশোক কুমার মিশ্র
❤️ গুগল উইকিপিডিয়া


ধন্যবাদান্তে

Sscbangla123


Post a Comment

0 Comments